মুরগির গল্প

একদিন এক মুরগির বাচ্চা হাঁটতে হাঁটতে জংগলে চলে গেল। জংগলে তার মাথার ওপর একটি ওক গাছের ফল পড়ল। বেচারা মুরগির বাচ্চা বলল, 'আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো!' আমি যাই রাজাকে খবরটা দিয়ে আসি। এই বলে সে হাঁটতে শুরু করল।
পথে তার সাথে একটা মুরগির দেখা হলো।
মুরগিটি বাচ্চা মুরগিকে জিজ্ঞাসা করল, ' তুমি কোথায় যাচ্ছো?
মুরগির বাচ্চা বলল, 'ওহ! আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। রাজার কাছে যাচ্ছি খবরটা দিতে।'
মুরগি বলল, ' তুমি যদি চাও আমাকে ও নিয়ে যেতে পারো।
ঠিক আছে চল। এবার দুজনেই আবার হাঁটতে শুরু করল।
পথে যেতে যেতে দেখা হলো এক হাঁসের সাথে।
হাঁসটি মুরগিকে জিজ্ঞাসা করল,' তোমরা কোথায় যাচ্ছো?'
মুরগি উত্তর দিল, ' বেচারা বাচ্চা মুরগিটার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা খবরটা দিতে রাজার কাছে যাচ্ছি।'
হাঁস বলল, 'তোমরা যদি চাও তাহলে আমাকেও তোমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারো।'
ঠিক আছে চল। মুরগির বাচ্চা, মুরগি, হাঁস একসাথে চলতে শুরু করল।
পথে যেতে যেতে তাদের সাথে দেখা হলো এক টার্কির।
টার্কি হাঁসকে জিজ্ঞাসা করল, ' তোমরা সবাই মিলে কোথায় যাচ্ছো?'
হাঁস উত্তর দিল, ' ওহ! বেচারা মুরগির বাচ্চার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা যাচ্ছি রাজাকে খবরটা দিতে।'
ও আচ্ছা, বলল টার্কি মাথা দুলিয়ে। 'তোমরা যদি চাও তাহলে আমাকেও তোমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারো।
ঠিক আছে চল। এবার মুরগির বাচ্চা, মুরগি, হাঁস, টার্কি একসাথে দল বেঁধে চলতে শুরু করল।
যেতে যেতে দেখা হলো এক রাজ হাঁসের সাথে।
রাজহাঁস এত বড় দল হাঁটতে দেখে বলল, ' তোমরা সবাই মিলে কোথায় যাচ্ছো?'
টার্কি বলল, ' মুরগির বাচ্চার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা যাচ্ছি রাজাকে খবরটা দিতে।'
ও আচ্ছা, বলল রাজহাঁস। তোমরা যদি চাও তাহলে আমাকেও তোমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারো।'
ঠিক আছে চল। এবার মুরগির বাচ্চা, মুরগি, হাঁস, টার্কি, রাজহাঁস একসাথে চলতে শুরু করল। বেচারা পশুরা রাজাকে খবরটা দিতে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কেউ রাজা কোথায় থাকে তা জানতো না।
এবার তাদের সাথে দেখা হলো এক শেয়ালের। শেয়ার বলল তোমরা কোথায় যাচ্ছো? রাজহাঁস বলল,' মুরগির বাচ্চার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা যাচ্ছি রাজাকে খবরটা দিতে।'
শেয়ার একটু ভেবে বলল, ' চল আমি তোমাদের রাজার কাছে নিয়ে যাব।'
তারা খুশিমনে শেয়ালের পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগলো। শেয়ার তাদের সাথে মিথ্যা কথা বলেছিল। সে তাদেরকে তার গুহায় নিয়ে গেল। তারপর শেয়াল এবং তার বাচ্চারা মিলে মুরগির বাচ্চা, মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস, টার্কি সহ সবাইকে মজা করে খেয়ে ফেলল।
বেচারা মুরগির বাচ্চা, তার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে, এ খবরটি আর রাজাকে দিতে পারল না।

This story is taken from
Project Gutenberg's An Elementary Spanish Reader, by Earl Stanley Harrison
Name of the story: El cuento del Pollo

পর্বতের গল্প


ছেলে  আর বাবা পর্বতের উপর দিয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ ছেলে পড়ে গেল। প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে চিৎকার করে উঠল। আহঃ।
তাকে অবাক করে দিয়ে পর্বত ও আহঃ বলে উঠলো।
ছেলে অবাক হয়ে বলে উঠলো। তুমি কে?
সাথে সাথে পর্বতের কোথাও থেকে বলল। তুমি কে?
তারপর সে চিৎকার করে পর্বতকে বলল, 'আমি তোমার প্রশংসা করি।'
পর্বত ও সাথে সাথে উত্তর দিল, 'আমি তোমার প্রশংসা করি।'
উত্তর পেয়ে রাগান্বিত হয়ে ছেলেটি চিৎকার করে বলল, 'কাপুরুষ'।
পর্বত ও বলল, 'কাপুরুষ।'
এবার সে তার বাবাকে বলল, 'এসব কি হচ্ছে?'
বাবা ছেলের কথা শুনে একটু হাসলো এবং বলল, 'মনোযোগ দিয়ে শুনো বাবা'।
বলে এবার তিনি উচ্চস্বরে বললেন,' তুমি চ‍্যাম্পিয়ন'।
সাথে সাথে পর্বত বলে উঠলো, ' তুমি চ‍্যাম্পিয়ন'।
ছেলেটি অবাক হলো, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলো না।
এবার বাবা বলল, ' এটাকে মানুষ প্রতিধ্বনি বলে। কিন্তু এটাই বাস্তব জীবন।'
এ জীবনে তুমি যা কিছু করবে বা বলবে তা তোমার কাছেই ফিরে আসবে। আমাদের জীবনটা   শুধুমাত্র আমাদের কাজের প্রতিফলন।
যদি তুমি পৃথিবীতে অনেক ভালোবাসা পেতে চাও, তাহলে তোমার হৃদয়ের মধ্যে অনেক ভালোবাসা তৈরি করা।
যদি তুমি তোমার দলকে অনেক কর্মদক্ষতা সম্পন্ন দেখতে চাও, তাহলে তোমার নিজের মধ্যে আগে কর্মদক্ষতা তৈরি কর।
এ সম্পর্কটা সব জায়গাতেই প্রযোজ‍্য , জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
তুমি যাকিছু কর, তোমার জীবনে তা কোন না কোনভাবে ফিরে আসবেই।

জীবনটা কাকতালীয় কোন ব্যাপার নয়। এটা তোমার কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন।

৩১

আর একা নয়

তোমাদের একটি গোপন কথা বলি। যখন আমি তোমাদের মতো ছোট্ট ছিলাম, আমি প্রায় খুব একাকী অনুভব করতাম। মাঝেমধ্যে খেলার জন‍্য আমি কোনো বন্ধু পেতাম না। আমার মনে হতো কেউ আমার প্রতি কোনো খেয়াল করছে না।
বড়রা এখন এত ব‍্যস্থ যে তাদের অনেকেই তাদের ছোটবেলার এই একাকীত্বের কথা ভুলে গেছেন। কিন্তু আমি ভুলিনি এখনো।

আমাদের গল্পের কাঠবেড়ালী চেস্টনাট ও একাকী অনুভব করতো। কিন্তু একদিন এমন কী ঘটেছিল তা তার চোখ খুলে দিয়েছিল.....

তোমাদের বন্ধু
ওয়ালডু

একদিন সকালে চেস্টনাট স্বাভাবিকের চাইতে বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে রইল। তার কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করছিল না। আসলে ঘুম থেকে উঠে তার কোন কাজও নেই। সবচেয়ে ভয়ংকর  ব্যপারটা হলো তার কোন খেলার বন্ধু নেই।
'আমার আরেকটু ঘুমিয়ে থাকাই ভালো।' মনে মনে ভাবলো চেস্টনাট। হঠাৎ সারা ঘরটাই প্রচন্ডভাবে কেঁপে উঠলো।

'ভূমিকম্প!' লাফ দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবলো চেস্টনাট।

The Story of the World- What is Archaeology?



আর্কিওলজি কি?
আগের দিনের লোকজনের লিখে যাওয়া বিভিন্ন চিটি বা অন্যান্য লিখা পড়ে আমরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারি। কিন্তু এটা ইতিহাস তৈরী করার একটা পদ্ধতি।
অনেক অনেক দিন আগে লোকজন কিভাবে লিখতে হয় তাও জানতো না। তারা একে অন্যেক কাছে চিটি লিখে নি। রাজা মনুমেন্টে কোন গল্প খোদাই করে রাখেনি। যেসব লোক লিখতে জানতো না ইতিহাসবিদরা কিভাবে তাদের সম্পর্কে জানবে?
কল্পনা কর অনেক দিন আগে নদীর পাশে একটি গ্রামে কিছু লোক বাস করত। এই লোকগুলো কিভাবে লিখতে হয় তা জানতো নাতারা তাদের বন্ধুর কাছে কোন চিটি লিখেনি। অথবা তাদের দৈনন্দিন জীবনের কোন ডাইরী নেই। কিন্তু তারা যখন প্রতিদিন তাদের কাজে যেত তখন তারা কিছু জিনিস মাটিতে ফেলে দিত। একজন কৃষক গমের ক্ষেতে কাজ করার সময় লোহার একটি কোদাল হারিয়ে ফেলেছিল। সে এটা আর খুঁজে পায় নি। হারিয়ে যাওয়া কোদালটি আর না খুঁজে সে আরেকটা কোদাল ব্যবহার শুরু করল।
এদিকে বাড়িতে তার স্ত্রী ভুল করে একটি মাটির পট ফেলে দিয়েছে। এটা  ভেঙে টুকরা হয়ে গেছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পটের টুকরাগুলোকে লাথি দিয়ে ঘরের বাইরে ফেলে এসেছে। তার বাচ্চা মাটির ষাঁড় আর গুরুর গাড়ি দিয়ে খেলছিলতার মা তাকে ডাক দিল আর ওমনি সে গরুর গাড়ি আর মাটির ষাঁড়ের কথা ভুলে মায়ের কাছে ছুটল। মা তাকে আবার নতুন খেলনা এনে দিল। উত্তেজনায় সে ষাঁড় আর গরুর গাড়ির কথা ভুলে গেল। পরদিন তার বাবা যাচ্ছে মাঠে কাজ করতে দুর্ঘটনাক্রমে পায়ের লাথি খেয়ে কিছু ময়লা তার গাড়িটার উপর গিয়ে পড়ল। গাড়িটি ময়লার নিচে পড়েই রইল।

দশটি কারণ : কেন মুসলমানদের আরবী শিখা উচিত?



দশটি কারণ : কেন মুসলমানদের আরবী শিখা উচিত?

১. সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ পৃথিবীর বর্তমান, অতীতের অনেক ভাষা থেকে আরবীকে বাছাই করেছেন সমগ্র মানবতার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে। শুধু এ কারণটাই মুসলমানদের আরবী ভাষা জানার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যদি চাইতেন আরবী ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায়, এমনকি সকল ভাষায় কুরআন নাযিল করতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজেই কুরাআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই, আমরা কুরআনকে আরবী ভাষায় নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।‘ এই আয়াতটা আরবী ভাষার অনন্য বৈশিষ্ট্যের ইংঙ্গিতবাহী যাতে অন্যান্য সকল ভাষায় চেয়ে আরবী ভাষার শ্রেষ্টত্ব এবং আ্ল্লার কথাগুলোর সঠিক অর্থ অনুধাবনের যোগ্যতা সম্পন্ন এ ভাষা যা অন্য কোন ভাষার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নেই বস্তুত: আল্লাহ তায়ালাই আরবী ভাষাকে এ অনন্য বৈশিষ্ট্যের এবং অন্যান্য ভাষা থেকে শ্রেষ্টত্বের মর্যাদায় আসিন করেছেন।
২. আপনি যদি আল্লাহকে সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা মনে করেন এবং আল্লাহর মনোনীত সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) হয় তাহলে প্রত্যেক মুসলমানের কি উচিত নয় আল্লাহ এবং তার নবীর এ ভাষাকে শিক্ষার জন্য , আল্লাহ এবং তার রাসুল কি বলেছেন তা বোঝার জন্য নিজের সমগ্র প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করা? কিভাবে একজন মুসলমান এই ভাষা শিখার জন্য সময় খুজঁবে না যেখানে বিশ্বের অনেক ভাষা শিখা এবং অর্থ উপার্জনের জন্য তার যথেষ্ট সময় থাকে?
৩. বিরাট সংখ্যক পণ্ডিত বিশ্বাস করে কুরআনের রচনাশৈলি, বাগ্মিতা অন্য যে কোন সাহিত্যের তুলনায় অনেক উচু মানের। আরবী ভাষার জ্ঞান না থাকলে স্রষ্টা কতৃক সরাসরি প্রেরিত এই অতুলনীয় সাহিত্য রচনাকৌশলটা থেকে সবসময় নিজেকে বঞ্চিত রাখা হবে।
৪. কুরআন হাদিসের বাইরে আরবী ভাষায় রয়েছে সুবিশাল এবং সমৃদ্ধ ইসলামী সাহিত্যে উত্তরাধিকার। আরবী ভাষায় বিভিন্ন পড়ালেখার রয়েছে বিপুল পরিমান বৃত্তির ব্যবস্থা যা ইসলাম শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য বরাদ্ধ করা আছে। এ ভাষায় দক্ষ হয়ে না উঠলে এসব থেকে মুসলিম উম্মাহ, মুসলিম ইনিস্টিটিউটগুলো কোন উপকার পাবে না এবং সমৃদ্ধ হবে না। যা পরোক্ষভাবে মুসলিমদের বিপক্ষেই যাবে।
৫. উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসলামী বিজ্ঞান আরবী ভাষাগত বিজ্ঞান থেকে আহরণ করা যাতে বেশকিছু ভাষাগত ইস্যুর আলোচনা আছে। এসব বুঝার জন্য আরবী ভাষা বিজ্ঞানের উপর ব্যপক দখল থাকা দরকার। এসব বিজ্ঞানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আল-তাফসীর (কোরানের ব্যাখ্যা), 'উলুম আল-কুরআন (কোরান বিজ্ঞান),' ইলমে আল-হাদীছ, আল-ফিকহ (ইসলামী বিধান), আল-আকিদাহ (ইসলামী ধর্মশাস্ত্র)। ইসলামের দু’টি প্রধান উস কুরআন ও হাদীছ আরবী ভাষায় হওয়ার এসবের অর্ন্তনীহিত অর্থ অনুধাবন, সঠিক বার্তা বুঝতে পারা তখনই সম্ভব হবে যখন আরবী ভাষার চর্চা অনেক উন্নত পর্যায়ে থাকবে। ইসলামী বিজ্ঞান চায় এসবের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ। তাহলেই শুধু কুরআন হাদিছের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব।
৬. হযরত উমর (রা:) বলেছেন:
‘সুন্নাহ শিখুন এবং আরবী শিখুন। কুরআনকে আরবীতে শিখুন কারণ এটা আরবী ভাষায় রচিত।‘
তিনি আরো বলেছেন:
‘আরবী শিখুন কারণ এটা আপনার ধর্মের একটা অংশ কিভাবে মৃতের সম্পদ বন্টন করতে হবে( আল ফারাইদ) তা বুঝতে আরবীকে জানুন কারণ এটা আপনার ধর্মের অংশ।‘
ইমাম শাফেঈ কুরআনকে বুঝার জন্য বিশ বছর ধরে আরবী শিখেছিলেন (কারণ এটা হচ্ছে বিশুদ্ধ উস)
কিছু কিছু পণ্ডিত আরবী ভাষাকে মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাষা হিসাবে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন কুরআন, হাদিসের অধ্যয়ন প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। যেহেতু কুরআন হাদিস আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া শিক্ষাকরা সম্ভব নয় সুতরাং আরবী ভাষাও বাধ্যতামূলক করা হউক।
৭. আরবী ভাষার জ্ঞান একজন মুসলিমকে তার ইবাদতকে আবেগময় এবং অর্থবহ করে দেয়। সালাত, কুরআন তেলওয়াত, খুতবা শ্রবনে, দুয়া করার সময় অর্থ বুঝাটা একজন মুসলমানের মধ্যে প্রবল আবেগ সৃষ্টি করতে পারে যা না বুঝে করলে অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। সংক্ষেপে, আরবী জ্ঞান আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারিকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলে। অন্য কথায়, আরবী আমাদেরকে কুরআন এবং নবীজীর নির্দেশনাকে সরাসরি শুনতে এবং পালনকরতে সক্ষম করে।
৮. অনুবাদের একটা সমস্যাযুক্ত প্রকৃতি আছে যার কারণেই মুসলিমদের আরবী জানা উচিত। আমাদের অধিকাংশ ঐতিহ্য এখন অনারব মুসলিম জনগণের নিকট অনধিগম্য। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছতে পারবে না। অনুবাদের একটা নিজস্ব ঘাটতি থেকে যায় যা পুরো বিষয়টার স্বাদ নেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এটার পরিসীমা নিম্নমান, অগ্রহনযোগ্য, ভুল অনুবাদও হতে পারে।
৯. সংস্কৃতির প্রবাহ হচ্ছে ভাষা। একটি ভাষা তার বক্তাদের উপর অমোচনীয় প্রভাব বিস্তার করে। আরবী ভাষার মধ্যে ইসলামী সংস্কৃতিটা একটা পজিটিভ ভিত্তির উপর বিদ্যমান। নি:সন্দেহে কুরআন সুন্নার একটা স্থায়ী চিহ্ন আরবী ভাষার মধ্যে নীহিত। তাছাড়া দীর্ঘ চৌদ্দশত বছর ধরে আরবী প্রায় অবিকৃতই আছে।
১০. যদি কিছু সংখ্যক অমুসলিম মুসলমানদের জন্য ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এবং ইসলামকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেয়ার জন্য মুসলমানদের উপর আধিপত্য বজায় রাখার জন্য আরবী নিয়ে গবেষণা করতে পারে তাহলে একজন মুসলিম ইসলামকে সমুন্নত রাখার জন্য, তার বিশ্বাসকে (ঈমান) মজবুত করার জন্য , মুসলিম উম্মাহকে এন্টি ইসলামিস্টদের ষড়যন্ত্র, ইসলামফোবিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কেন আরবী অধ্যয়ন করবে না?
আমেনুল্লাহ আবদেরইফ এর লেখা অবলম্বনে